ভূমিকা
childrens "challenging" behaviour
আপনি যখন আপনার সন্তানদের বড় করে তুলছেন, তখন কঠিন অবস্থার মোকাবিলা করার জন্য আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করার জন্য এই তথ্যপত্র লেখা হয়েছে । আপনি কিভাবে আপনার সন্তানদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি করতে পারেন সেই চিন্তাধারায় সহায়তা করার জন্য তথ্য গুলি দেওয়া হয়েছে, যাতে আপনি নিজেই বিচার করতে পারেন যে বাচ্চাদের কোন কোন ব্যবহারগুলি আপনার পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয় ।
এটা উল্লেখযোগ্য যে বাচ্চারা তাদের ব্যবহার দ্বারা নিজেদের অথবা অন্যদের আঘাত না করে ।
পিতা বা মাতা হিসাবে আপনার উপর কতটা দাবী সেটা বোঝা
যে কোন সময়েই এবং যে কোন ব্যক্তির পক্ষেই বাচ্চাদের বড় করে তোলা সহজ নয় ।
সময় এবং সামর্থ্য, অথবা আর্থিক ক্ষমতার ঘাটতির ফলে এটা হতে পারে যে অনেক সময় আপনি চিন্তিত বা মানসিক চাপের মধ্যে থাকতে পারেন । যখন আপনার সন্তানদের ব্যবহার কঠিন হয়ে দাড়ায়, তখন এই চাপজনক অবস্থার খুবই বাড়াবাড়ি হতে পারে ।
যখন এই অবস্থার সৃষ্টি হয় তখন এমনও মনে হতে পারে যে আপনাদের পারিবারিক জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে অথবা বাচ্চাদের ভবিষ্যত জীবনে বিপদের আশঙ্কা দেখা দেবে ।
আপনার যদি পিতা বা মাতা হিসাবে আপনার নিজের উপর আস্থা না থাকে, তার জন্য অনেক রকমের কারন থাকতে পারে । এর মধ্যে একটা কারন থাকতে পারে যে আপনার পিতামাতার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক ভাল নয় ।
এই সব মিলিয়ে সন্তানদের সমস্যাজনিত আচরন সামলানোর জন্য আপনার পক্ষে কঠিন হয়ে দাড়াতে পারে ।
বাচ্চাদের “অবাধ্য” ব্যবহার
বাচ্চারা নিয়মগুলি পরীক্ষা করে
সব বয়সের, বাচ্চারাই তাদের জন্য নির্দ্দিষ্ট নিয়মগুলি পরীক্ষা করে দেখে । নিয়মগুলি পরীক্ষা করে তারা আপনাকে বিশ্বাস করতে শেখে এবং আপনি তাদের জন্য যে সীমা ঠিক করে দিয়েছেন সেই সীমা মেনে নিতে শিখে ।
নানাভাবে তারা এই বাঁধা ধরা সীমা পরীক্ষা করে । মেজাজ দেখিয়ে বলবে ‘না’ এবং ‘আমি চাই’ এগুলি বলার একটা কারণ হচ্ছে তারা এই সীমা পরীক্ষা করে দেখছে । তারা আপনার নিয়মের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে । পিতা বা মাতা হিসাবে আপনার যোগ্যতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না ।
আপনার সন্তানদের কাছ থেকে আপনি কি আশা করেন
আপনি তাদের কাছ থেকে কি চান?
আপনি তাদের কাছ থেকে কি রকমের ব্যবহার আশা করেন?
আমাদের সন্তানরা আমাদেরই অংশ এবং তারা আমাদেরই প্রতিবিম্ব । কিন্তু একই সঙ্গে তারা তাদের নিজেদের মত সতন্ত্র ব্যক্তি ।
তাদের কাছ থেকে কি আশা করা বাস্তবিক ?
’সাধারন বা স্বাভাবিক ’ বলতে কোনটা বোঝায় ?
বিভিন্ন বয়সে বাচ্চারা ভিন্ন ভাবে ব্যবহার করে, তারা বিভিন্ন জিনিষ শেখে এবং বিভিন্ন দক্ষতা অর্জন করে, যেমন:
-
একটি দুই বত্সর বয়সের শিশু হাত পা এবং শরীরের অন্যান্য অংশ ঠিকমত ব্যবহার করা এবং নূতন নূতন ভাষার ব্যবহার শিখছে ।
-
একটি 10 বত্সর বয়সের ছেলে বামেয়ে তারা তাদের মানষিক অনুভূতিগুলি বুঝতে এবং তার সমবয়সী বন্ধু বান্ধবদের অনুভূতিগুলি বুঝতে চেষ্টা করে; এবং
-
15 বত্সর বয়সের কিশোর/কিশোরী তাদের মানসিকতার উপর কাজ করে যেমন, তার নিজস্বতা এবং এই পৃথিবীর সঙ্গে তার যোগাযোগ গড়ে তোলার চেষ্টা করে ।
-
পিতা বা মাতা হিসাবে আপনার সন্তানদের প্রতি আপনার ব্যবহার নমনীয় হতে হবে এবং এই ব্যবহার আপনার সন্তানদের বয়সের এবং তাদের স্বভাবের সঙ্গে মানানসই হতে হবে । আপনার সন্তানদের বড় হওয়ার সঙ্গে আপনিও নূতন নূতন জিনিষ শিখবেন এবং পিতা বা মাতা হিসাবে আপনার সন্তানদের প্রতি আপনার ব্যবহারের নমুনা ও পরিবর্তিত হবে ।
তবে আপনার সন্তানের বয়স যাই হোক না কেন একটা নিয়ম সর্বদা একই রকমের থাকবে । আপনারা যদি সবসময় এই নিয়ম একইভাবে চালিয়ে যান, তাহলে আপনার সন্তানরা নিরাপদ বোধ করবে ।
বাচ্চারা অবাধ্য ব্যবহার কেন করে ?
কখনও কখনও বাচ্চারা এই ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের অনুভূতিগুলি প্রকাশ করে কারণ একমাত্র এই রকম ব্যবহার দ্বারাই তারা আপনাকে জানাতে পারে যে তারা কি রকম বোধ করছে ।
যখন কোন ব্যাপারে তাদের রাগ হয় বা হতাশা বা অনিশ্চয়তায় ভোগে, অথবা নিজেদের দোষী মনে করে বা লজ্জা পায়, সেগুলি তাদের পক্ষে সামলানো সম্ভব হয় না, তখন তারা অবসন্ন বা অসুস্থ বোধ করতে পারে; অথবা তাদের অনুভূতির বা ব্যবহারে আকস্মিক পরিবর্তন দেখা দিতে পারে ।
আকর্ষনের অভাবজনিত অতিরিক্ত চঞ্চলতার অস্বাভাবিক ব্যবহার/এ়টেনশন ডেফিস্ট হাইপার এ়কটিভিটি ডিসঅর্ডার(ADHD)
যে সকল বাচ্চা যারা অস্থির এবং যাদের অনেক কর্মশক্তি থাকে তাদের ‘অস্বাভাবিক’ বলে বর্ননা করা হয় । যে সকল বাচ্চাদের আকর্ষনের অভাবজনিত অতিরিক্ত চাঞ্চলতার অস্বাভাবিক ব্যবহার/এটেনশন ডেফিস্ট হাইপার এ়ক টিভিটি ডিস অর্ডার (ADHD)আছে, তাদের এই ব্যবহার যখন চুড়ান্ত পর্যায়ে পেৌঁছায় এবং, এর ফলে তাদের পরিবারের অথবা তাদের কাছাকাছি অন্যান্য ব্যক্তিদের, তারা আঘাত দিতে পারে অথবা তাদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে ।
যে সকল বাচ্চাদের আকর্ষনের অভাবজনিত অতিরিক্ত চাঞ্চলতার অস্বাভাবিক ব্যবহার/এটেনশন ডেফিস্ট হাইপার এ়ক টিভিটি ডিস অর্ডার (ADHD) আছে তাদের মনোযোগ দেওয়ার শক্তি খুব কম এবং অতিরিক্ত চঞ্চল, বিশেষত আপনি যখন চাইছেন যে তারা শান্ত হোক । এই ব্যবহারগুলির ভিতর থাকতে পারে যেমন, তারা অপেক্ষা করতে পারে না, চিন্তা ভাবনা না করেই কাজ করে এবং নিয়ম ভাঙ্গে ।
এর ফলে এই সকল বাচ্চারা নিজেরাও ভোগে এবং স্কুলে পড়াশোনায় ভাল ফল করতে পারে না এবং বন্ধু বানানো তাদের পক্ষে কঠিন হয় । তাদের হয়ত দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা বেশী থাকতে পারে এবং রাগ বেশী হতে পারে এবং হয়ত ঘুম কম হতে পারে ।
আকর্ষনের অভাবজনিত অতিরিক্ত চাঞ্চলতার অস্বাভাবিক ব্যবহার/এটেনশন ডেফিস্ট হাইপার এ়ক টিভিটি ডিস অর্ডার(ADHD) হচ্ছে একটি রোগ যেটা ঔষধ বা চিকিত্সার দ্বারা সারানো যেতে পারে । প্রথম থেকেই এই ব্যবস্থা নিলে সেটা আপনার সন্তান এবং পরিবারের পক্ষে সাহায্যকারী হতে পারে । এবং বাড়ীতে আপনার সামাজিক পরিবেশে আপনার জীবন যাত্রা আরও ভাল হতে পারে ।
আকর্ষনের অভাবজনিত অতিরিক্ত চাঞ্চলতার অস্বাভাবিক ব্যবহার/এটেনশন ডেফিস্ট হাইপার এ়ক টিভিটি ডিস অর্ডার(ADHD) আপনার সন্তানের ব্যবহারের কারণ কি না সেটা জানার জন্য আপনার ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন ।
ব্যবহারে পরিবর্তন
যখন আপনার সন্তানের ব্যবহার কঠিন হয়ে পড়ে, তখন নিজেকে নিম্নলিখিতগুলি জিজ্ঞাসা করুন ।
বর্তমানে কিসের পরিবর্তন হয়েছে, অথবা আমার সন্তানের জীবনে কোনটার পরিবর্তন হচ্ছে ?
এই অবাধ্য ব্যবহারের পিছনে কি অনুভূতি থাকতে পারে ?
বাচ্চাদের উপর তাদের জীবনে কোন পরিবর্তন অথবা অবস্থার পরিবর্তনের ফলে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়, যেমন;
স্কুল বদলানো;
বন্ধুত্ব হারানো; অথবা
যখন তারা বড় হচ্ছে তাদের নিজেদের শারীরিক পরিবর্তন ।
নিম্নলিখিতগুলি ও মন খারাপের কারণ হতে পারে:
হটাত্ করে তাদের দৈনন্দিন জীবন যাত্রায় অনেক পরিবর্তন
অনুভূতির ক্ষতি, যেমন একজন পিতা বা মাতা অথবা যত্ন নেওয়ার ব্যক্তি অন্য জায়গায় চলে যাওয়া অথবা মারা গেছেন;
স্কুলে সমস্যা, যেমন, নিপীড়িত বা উত্ত্যক্ত হওয়া, লেখা পড়া শিখতে কষ্ট হওয়া অথবা বন্ধুদের দেওয়া চাপ;
কোন রকম শারীরিক, মানসিক অথবা যৌন অপব্যবহারে ভোগা বা সাক্ষী হওয়া; অথবা
ড্রাগ বা মদ খাওয়া
অবাঞ্চিত ব্যবহার
‘
আক্রমন’ কি ?
আপনার প্রতি যে কোন ব্যবহার যদি আক্রমনাত্বক মনে হয়, তাহলে সেটা হবে আক্রমন ।
বাচ্চার বয়সটা মনে রাখবেন; যদি একটা দুই বত্সরের বাচ্চা চিত্কার করে আপনার দিকে দৌড়ায় তাহলে এবং সেটা যদি আপনার কিশোর ছেলে চিত্কার করে আপনার দিকে দৌড়ায়, তাহলে সেটা অন্যরকম মনে হবে ।
মনে রাখবেন আপনার প্রতি কোন রাগী ব্যবহারে যদি আপনি বিশেষভাবে কষ্ট পান, সেটা আপনার আগে সেরকম কোন অভিজ্ঞতার কারণে হতে পারে ।
যখন আপনার উপর এরকম ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এটা আপনার সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন আপনি বলতে পারেন যে আপনি কতটা সহ্য করতে পারবেন ।
অবাঞ্ছিত ব্যবহার কি সেটা উপলব্ধি করা
কোন্ অবাঞ্ছিত ব্যবহার আপনার পক্ষে মানা সম্ভব নয় সেটা ঠিক করার জন্য নিম্নলিখিত দুইটি তালিকা আপনাকে সাহায্য করবে । ‘সাধারন’ তালিকার কোন কোন ব্যবহার আপনি হয়ত মেনে নিতে পারবেন না । আপনি কি এই তালিকার সঙ্গে একমত?
সাধারন আক্রমনাত্মক ব্যবহার
আপনিও নিজেও এই অবস্থার পরিবর্তন করতে চেষ্টা করতে পারেন । আপনার বন্ধু বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে এ সম্বন্ধে কথাবার্তা বললে সাহায্য হতে পারে ।
সাধারন আক্রমনাত্মক ব্যবহারের মধ্যে আছে;
আপনাকে, ভাই বোনদের এবং/অথবা অন্যদের গালিগালাজ দেওয়া, চিত্কার করা;
খারাপ নাম ধরে ডাকা বা নীচু করা;
খারাপভাবে শারীরিক ব্যবহার করা, যেমন; ঠেলা দেওয়া, ধাক্কা দেওয়া, কনুই দিয়ে গোতা মারা অথবা মাটিতে ফেলে দেওয়া;
শারীরিক শক্তি ব্যবহার করা হবে বলে শাসানো
আপনাকে উপেক্ষা করা অথবা আপনার সঙ্গে কথা না বলা;
আপনার দুঃখ জনক ব্যবহার নিয়ে ব্যঙ্গ করা- কোন শারীরিক ধরন অথবা পারিবারিক ইতিহাস নিয়ে; অথবা
আপনার ব্যক্তিগত এলাকায় প্রবেশ করাা-কোন ব্যক্তির ঘরে না বলে প্রবেশ করা, কারো ব্যক্তিগত ডাইরী পড়া অথবা উদ্দেঙ্যমূলক ভাবে তাদের খুব কাছাকাছি দাড়ানো ।
যদিও এই ধরনের ব্যবহার খুবই সাধারন, কিন্তু যখন মনে হয় যে আপনি এটা সামলাতে পারছেন না, তখন আপনার সাহায্য নেওয়া উচিত ।
অতিরিক্ত আক্রমনাত্মক ব্যবহার
অতিরিক্ত আক্রমনাত্মক ব্যবহার হল যেখানে আপনার সন্তানের আপনার অথবা অন্যান্য ব্যক্তিদের আঘাত লাগতে পারে ।
অতিরিক্ত আক্রমনাত্মক ব্যবহারের ভিতর আছে;
অন্যদের শারীরিক ভাবে আঘাত করা, শারীরিক শক্তির ব্যবহার, বেশী লম্বা বা শক্তিশালী, যার ফলে সহজেই অন্যদের কাবু করতে অথবা আঘাত করতে পারে;
ভাই বোনদের স্কুলের সঙ্গীদের এবং/অথবা আপনাকে উত্পীড়ন করা- যার মধ্যে আছে বিদ্রুপ করা, শাসানো এবং আতঙ্কিত করা যার ফলে অন্যান্য ব্যক্তিরা তাদের ভয় পাবে;
অন্যদের সম্বন্ধে ক্ষতিকর গুজব ছড়ানো;
উদ্দেঙ্যমূলকভাবে ছোট অথবা পোষা জন্তু জানোয়ারের অঙ্গচ্ছেদ করা বা মেরে ফেলা;
উদ্দেঙ্যমূলকভাবে অন্যকোন ব্যক্তির সম্পত্তি অথবা জিনিষপত্র ধ্বংস করা;
জনসাধারনের সম্পত্তি চুরি বা ধ্বংস করা;
নিজেকে ছুরি দিয়ে কেটে, নিজেকে কষ্ট দিয়ে অথবা আত্মহত্যার চেষ্টা করে নিজেকে আঘাত করা; অথবা
অন্য কোন বাচ্চার উপর যৌন অত্যাচার করা ।
এই সমস্ত ক্ষেত্রে অথবা যখন সাধারন আক্রমনাত্মক ব্যবহার ও আপনার পক্ষে সামলানো সম্ভব নয়, তখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনার সাহায্য নেওয়া উচিত । এই সাহায্য কেবলমাত্র বন্ধু বান্ধব বা পরিবারের সদস্যদের কাছেই চাইবেন না, বৃহত্তর সামাজিক পরিবেশের কাছেও এই সাহায্য চাইবেন ।
সমস্যাটাকে মেনে নিন
কখনও কখনও সমস্যাকে মেনে নেওয়া কঠিন । আপনি যদি আপনার সন্তানের ব্যবহারে ভীত হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি হয়ত সমস্যাটাকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করবেন এই আশায় যে সমস্যাটা চলে যাবে, অথবা আশা করবেন যে আপনার সন্তান এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসবে ।
সমস্যা আছে এটা মেনে নেওয়া হচ্ছে, আপনি যে এই ব্যবহার আর মেনে নেবেন না সে সম্বন্ধে একটা উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ ।
মনে রাখবেন যে, আপনি আপনার সন্তানের জন্য যতটা ভাল করা সম্ভব করছেন । আপনার নিজেকে দোষী মনে করার কোন কারণ নেই । পিতা বা মাতা হিসাবে সন্তানকে বড় করে তোলার যে দৈনন্দিন চাপ সেটা মনোবলহীনতার কারণ হতে পারে এবং অন্যভাবে কিছু করার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনেক সাহসের প্রয়োজন হতে পারে ।
আপনি নিজে যদি আপনার সঙ্গীর দিক থেকে পারিবারিক অত্যাচারে ভুগে থাকেন, তাহলে আপনার সন্তান যখন আপনার সঙ্গে বেশি রাগ করে অথবা অন্যদের সঙ্গে মারামারি করে তখন আপনার পক্ষে সেটা মেনে নেওয়া বিশেষ কঠিন হয়ে দাড়ায় ।
সাহায্য নেওয়া
যখন আপনার চিন্তাভাবনা অথবা প্রতিদিনের কাজ কর্ম অথবা আপনার স্বাস্থে্যর উপর বিপরীত প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে, তখন সাহায্যের জন্য খোজাঁখবর করা ভাল । যদি আপনার অন্যান্য সন্তানরা আপনার উপরে এই ধরনের ব্যবহার দেখছে অথবা তাদের উপরে ও এই ধরনের ব্যবহার করা হচ্ছে, তাহলে সেই সময়ে আপনার সাহায্য পাওয়ার জন্য খোজাঁখবর করা ভাল ।
এই সমস্যাটা কেবল আপনার মধ্যেই রাখবেন না
সাহায্য চাওয়া সহজ নয়, বিশেষত: আপনি যদি একজন পিতা বা মাতা হন । এরকম ক্ষেত্রে সহজেই আপনার মনে হতে পারে আপনাকে অবঙ্যই নজেই সব করতে হবে এবং নিজের উপরেই নির্ভর করতে হবে ।
কিন্তু মনে রাখবেন সাহায্য চাওয়ার মানে হল যে আপনার ক্ষমতার সীমা মেনে নেওয়া, দায়িত্বপূর্ণ ব্যবহার করা এবং আপনার সন্তানদের সামনে ভাল নমুনা তুলে ধরা ।
সাহায্য নেওয়ার সময় কখন ?
যদি নিচের সব প্রশ্নগুলিতেই আপনি ‘হ্যাঁ’ বলেন, তাহলে এটা হচ্ছে ঠিক সময় যখন আপনার সন্তানের আক্রমনাত্মক ব্যবহার সামলানোর জন্য অন্যান্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে কি কি সাহায্য পেতে পারেন তার তালিকা তৈরী করা ।
আপনি কি দেখেছেন যে:
আপনি নিজে নিজে অবস্থা বদলানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু কিছুই বদলায় নি;
বেশী চাপের ভিতর আছেন এবং কি করবেন সে সম্বন্ধে নিশ্চিত নন;
আপনি ভালভাবে সামলাতে পারছেন না বলে খারাপ বোধ করছেন;
প্রতিদিনের কাজকর্ম সামলাতে অসুবিধা হচ্ছে;
সব সময়েই হতাশায় ভুগছেন; অথবা
আপনার এবং সন্তানের সম্বন্ধে অন্য লোকেরা কি মনে করবে ভয়ে একলাই এই প্রতিকুল অবস্থার মধ্য দিয়ে চলছেন ।
আপনি কি ভয় পান:
যে আপনার সন্তানকে হয়ত তার পিতা বা মাতার সঙ্গে বাস করবার জন্য যেতে হতে পারে;
আপনার সন্তানকে হয়ত: অন্য কোন জায়গায় দেখাশোনার জন্য পাঠাতে হতে পারে; অথবা
আপনার নিজের নিরাপত্তার জন্য, অথবা বাড়ীতে যেতে ভয় পান ?
আপনার সন্তানের ব্যবহার;
আপনার বা অন্যান্য ব্যক্তিদের প্রতি আঘাতমূলক বা অত্যাচারমূলক ব্যবহার;
আপনার অন্যান্য সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য আপনি ভয় পাচ্ছেন
আপনার এই সন্তানের নিরাপত্তার জন্য ভয় পাচ্ছেন; অথবা
তার স্কুলে পড়াশোনা করা বা যাওয়ায় বিঘ্ন ঘটছে ?
নিম্নলিখিত ব্যাপারগুলি কি ক্রমশঃ কঠিন হয়ে দাড়াচ্ছে?
আপনার সন্তানের সঙ্গে আপনার সম্পর্ক;
আপনার সন্তানের হোমওয়ার্কে সাহায্য করার চেষ্টা করতে;
পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের, বন্ধুদের এবং প্রতিবেশিদের সঙ্গে আপনার সন্তানের সম্পর্ক; অথবা
চার পাশের ব্যক্তিদের সঙ্গে আপনার নিজের সম্পর্ক এবং এর ফলে আপনার স্বাস্থ্য এবং সুখের উপর প্রভাব ?
আপনি কি চিন্তিত আছেন যে:
আপনার সন্তানের বিশেষ কোন সমস্যা আছে, যেমন, স্কুলে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে সমস্যা অথবা ড্রাগ বা মাদক দ্রব্যের প্রভাব ?
যখন আক্রমনাত্মক ব্যবহার আসল আক্রমনে দাড়ায়
আপনার একটি বয়স্ক সন্তানের দ্বারা ঘটিত কোন আঘাতে ভোগেন অথবা আপনি বাড়ীতে নিরাপদ বোধ না করেন, তাহলে এই অত্যাচার বন্ধ হওয়া অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য । আরও উল্লেখযোগ্য যে আপনি এটা বন্ধ করার জন্য বাইরে থেকে সাহায্য নিন একা একা এটা সামলানোর চেষ্টা করবেন না ।
যদি আপনার আইনের ব্যাপারে কোন চিন্তা থেকে থাকে তাহলে আপনার উকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করুন । যদি আপনার কোন বড় বা বয়স্ক সন্তানের দিক থেকে ক্রমাগত আক্রমন চলতে থাকে তাহলে আপনি হয়ত পুলিশ অথবা সোঙ্যাল সার্ভিসকে ডাকতে চাইতে পারেন ।
কোথায় আপনি আপনার সন্তানের জন্য সাহায্য চাইতে পারেন
যে সব ব্যক্তিকে আপনি বিশ্বাস করেন তাদের সঙ্গে কথা বলুন
যখন আপনি এ ব্যাপারে কথা বলতে পারবেন বলে মনে করেন, তখন একজন বন্ধু যার মতামতকে আপনি মূল্য দিয়ে থাকেন তার সঙ্গে আপনার চিন্তার বিষয়ে কথা বলুন, অথবা অন্য কোন ব্যক্তি যিনি এই অবস্থার ভিতর দিয়ে গেছেন তার সঙ্গে এটা নিয়ে কথা বলুন ।
আপনার পিতামাতা হিসাবে দায়িত্ব সম্বন্ধে অন্যান্য যারা আপনাকে সহায়তা করতে পারবে তাদের এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করুন- যেমন পিতা মাতা যাদের আপনি চেনেন অথবা স্থানীয় পিতামাতার গ্রুপ, আপনার স্থানীয় লাইব্রেরী তাদের খুজে বের করতে সাহায্য করতে পারবে ।
আপনার সন্তানের ব্যাপারে অন্যান্য যে সকল ব্যক্তির দায়িত্ব আছে
আপনার স্থানীয় সমাজে অন্যান্য যে সকল ব্যক্তিকে আপনি চেনেন, যারা আপনার সন্তানের দায়িত্ব নিতে পারেন অথবা এই ব্যাপারে তাদের দায়িত্ব রয়েছে ।
যদি তারা নার্সারীতে কাজ করেন, শিক্ষক/শিক্ষিকা, কোচ অথবা ইয়ুথ ক্লাবের দলপতি হন এবং আপনার সন্তান তাদের সঙ্গে যখন সময় কাটায়, সে সময় তার ব্যবহার কি রকম । যদি সেই সময়ে আপনার সন্তান অন্য রকম ব্যবহার করে থাকে এবং এ ছাড়াও অন্যান্য অবস্থায় সে কি রকমের ব্যবহার করে থাকে, সম্বন্ধে তারা আপনাকে বলতে পারবেন । এরা হচ্ছে সেই সব ব্যক্তি যাদের আপনার সন্তানের ব্যাপারে দায়িত্ব আছে এবং তারা আপনার সন্তানকে কিভাবে ভাল ব্যবহার করতে হয় তার নমুনা শেখায় । তারা আপনাকে বলতে পারবে যে নার্সারীতে, স্কুলে অথবা ক্লাবে কি কি নিয়ম আছে ।
তারা হয়ত আপনাকে বাস্তবিক উপদেশ দিতে পারে অথবা নমুনা দেখাতে পারে । আপনি আপনার সন্তানের জন্য সীমা বেঁধে দেওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে এক সঙ্গে কাজ করতে পারেন এবং সেখানকার মত একই নিয়ম ব্যবহার করতে পারেন ।
আপনার ডাক্তার/জি পি হয়ত আপনাকে ফ্যামিলি থেরাপিস্ট অথবা চাইল্ড সাইকোলজিস্টের সঙ্গে যোগাযোগে সাহায্য করতে পারেন । অল্পবয়সী বাচ্চাদের জন্য আপনার হেলথ ভিজিটার হয়ত সাহায্য করতে পারেন ।
সামাজিক সংস্থাগুলির সঙ্গে কথা বলুন
আপনার সন্তানের স্কুল, সোঙ্যাল সার্ভিস অথবা পুলিশ আপনাকে সহায়তা অথবা সহযোগীতা প্রদান করে সাহায্য করতে পারে- বিশেষত: যখন আপনার সন্তানের ব্যবহারে গন্ডগোল তখন তাদের ডাকতে পারেন । তবে এই ব্যবহার ভীতি প্রদর্শনে দাড়ানোর আগেই তাদের ডাকবেন ।
এই সামাজিক সংস্থাগুলি ভিন্ন ভিন্নভাবে কাজ করে:
স্কুলগুলি
স্কুল থেকে শিক্ষক/শিক্ষিকা- পিতামাতাদের মিটিংয়ে যেতে উত্সাহ দেয় । বাচ্চাদের জীবনের উপর এদের উল্লেখযোগ্য প্রভাব আছে এবং আপনার এলাকায় স্কুলের বাইরে বাচ্চাদের জন্য কি কি ব্যবস্থা আছে সেই সম্বন্ধে খবর পাওয়া যেতে পারে ।
আপনি যদি এই ব্যপারে স্কুল এবং শিক্ষক/শিক্ষিকাদের অন্তর্ভুক্ত করেন তাহলে আপনার সন্তানের সমস্যা সম্বন্ধে আপনি ভাল বুঝবেন । স্কুল এবং আপনি কিভাবে আপনার সন্তানের নিয়মানুবর্তীতা এবং কঠিন ব্যবহার সামলানো যায় সে বিষয়ে আপনারা পারস্পরিক সহায়তা দিতে পারবেন ।
সোঙ্যাল সার্ভিস
পরিবারের লোকেরা যাতে নিজেদের সাহায্য করতে পারে সেই ব্যপারে সহায়তা করার জন্য সোঙ্যাল সার্ভিস প্রতিশ্রুতি বদ্ধ, বিশেষত: যখন একজন পিতা বা মাতা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন । তথ্য এবং সহায়তা দেওয়ার ব্যাপারে তারা একটা উল্লেখযোগ্য উত্স হতে পারেন ।
যখন আপনার মনে হয় যে আপনার সন্তানের ব্যবহার সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে এবং এর ফলে আপনি এবং আপনার পরিবার কষ্ট পাচ্ছেন, তখন সোঙ্যাল সার্ভিস হয়ত আপনাকে সাহায্য করতে পারে । তারা হয়ত একজন সোঙ্যাল ওয়ার্কারের ব্যবস্থা করতে পারে অথবা কেবলমাত্র আপনার সন্তানের সঙ্গে কাজ করে তাকে সাহায্য করতে এবং কিভাবে তার রাগ সামলাতে পারে সেটা শেখানোর জন্য অন্য কোন ব্যক্তির ব্যবস্থা করতে পারে ।
যদি আপনি বাড়ীতে আপনার সন্তানকে সামলাতে না পারেন তাহলে শেষ অবস্থা হিসাবে সোসাল সার্ভিস আপনার সন্তানের যত্ন নেওয়ার জন্য একজন পালকের/ফস্টারেএ ব্যবস্থা করতে পারে ।
সোঙ্যাল সার্ভিসের আর একটা ভূমিকা হল, যখন আপনার সন্তানেরা অত্যাচার অথবা অবহেলায় ভুগছে তখন তাদেরকে রক্ষা করবার ব্যবস্থা করা ।
আপনার স্থানীয় পুলিশ স্টেশন
আপনাকে স্থানীয় সাহায্যগুলি সম্বন্ধে যেমন: ইয়ুথ মেনটরিং প্রোগ্রাম অথবা ‘ইয়ুথ ক্রাইম রিডাকশন সম্বন্ধে’ তথ্য দিতে পারে ।
আপনার সন্তান যদি পুলিশের সঙ্গে কোন ঝামেলায় পড়ে, তাহলে আপনাকে বাস্তবিক সাহায্য এবং আপনার সন্তানের কোন ঝামেলা দূরে থাকার জন্য কোর্ট ‘পেরেন্টিং অর্ডারের’ ব্যবস্থা করতে পারে । এর মানে হল যে আপনাকে পিতামাতার পরিকল্পনা/পেরেন্টিং প্রোগ্রামে যোগদান করতে হবে ।
পিতামাতার পরিকল্পনা/পেরেন্টিং প্রোগ্রাম
এগুলি বাড়ীতে পরীক্ষা করে দেখার জন্য নানারকমের ধারনা দিতে পারে । প্রায়শই তাদের সদস্যরা আপনাকে আপনার সন্তানের স্বাস্থ্য এবং উন্নতির ব্যাপারে সহায়তা করতে পারবে ।
আপনার লাইব্রেরী, হেলথ ভিজিটর সোঙ্যাল সার্ভিস অথবা একটি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আপনাকে পিতামাতার গ্রুপ সম্বন্ধে খবর দিতে পারবে ।
অবস্থা নিয়ন্ত্রনের ভার নিন
এটাই কাম্য যে আপনি নিজে যাতে এই সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করার দায়িত্ব নেন এবং সাহায্য চান, এর ফলে আপনার পক্ষে যতটা সম্ভব অবস্থার নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব ।
যদি অন্য কোন ব্যক্তির হস্তক্ষেপের ফলে স্কুল, পুলিশ অথবা সোঙ্যাল সার্ভিস আপনার পরিবারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে তাহলে আপনার মনে হতে পারে অবস্থার নিয়ন্ত্রন আর আপনার হাতে নেই ।
উদাহরণ হল, যদি আপনার সন্তানের ব্যবহার বাড়ীর বাইরে অন্যদের উপর প্রভাব ফেলে, আপনার প্রতিবেশী হয়ত এ ব্যাপারে কিছু করতে চান এবং সেই জন্য আপনার আগেই তিনি সাহায্যের এই সংস্থাগুলিতে যেতে পারেন ।
আপনি যদি নিজে এই বাইরের সংস্থাগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, তাহলে এটা মনে রাখবেন যে আপনি আপনার সন্তান এবং পরিবারকে সাহায্য করছেন এবং আপনি একজন দায়িত্ববান পিতা বা মাতা । আপনি এই ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করেছেন এবং একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসাবে আপনার পরিবারের এবং আপনার নিজের দায়িত্ব নিয়েছেন ।
পিতামাতা হিসাবে সন্তান বড় করা: কোনটাতে কাজ হয়?
পিতা বা মাতা হিসাবে নিজের উপর আস্থা রাখুন
আপনার যে দায়িত্বগুলি আছে এবং যে দক্ষতাগুলি আপনি প্রয়োগ করেন
আশা করা হচ্ছে যে এই অংশের ধারনাগুলি আপনাকে এটাই মনে করিয়ে দেবে যে পিতা বা মাতা হিসাবে আপনি ভাল কাজ করছেন এবং এই ব্যপারে আপনাকে আরও আস্থা দেবে ।
মানসিক চাপের ভিতর থাকার দরুন আপনি কতকগুলি ধারনা হয়ত ভুলে গেছেন, অন্য ধারনাগুলি হয়ত অভিজ্ঞতার দ্বারা, অথবা বন্ধুদের বা পরিবারের কাছ থেকে শিখছেন ।
মনে রাখবেন আপনি আপনার সন্তানদের সবচাইতে ভাল জানেন এবং আপনিই জানেন তাদের পক্ষে কোনটা ভাল ।
আপনার সন্তানদের আপনার সময় এবং মনোযোগ দিন
প্রত্যেক সন্তানের জন্য সময়
আপনার প্রত্যেক সন্তানের জন্য আপনার সময়ের প্রয়োজন এবং তাদের কথা শোনার জন্য আপনার সময়ের প্রয়োজন আছে।
তারা কি বলছে, এবং কি রকম বোধ করছে-এটা কেবলমাত্র যখন সমস্যা দেখা দেয় তখন নয়, যখন তারা ভাল ব্যবহার করছে তখনও এর ফলে কোন সমস্যা থাকলে আপনি সেটা আগে থেকেই ধরতে পারবেন ।
আপনার সন্তানদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য সবচাইতে বেশী প্রয়োজন হচ্ছে ভালবাসার, তাদের এটা বুঝতে দিন যে আপনি তাদের প্রত্যেককে তাদের নিজস্ব ব্যক্তিত্বের মূল্য দিয়ে থাকেন ।
তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে আলাদা আলাদাভাবে একলা সময় কাটান, যেমন একসঙ্গে বই পড়ুন, খেলুন, বাড়ীর বাইরে খেলুন এবং বাজার করুন ।
প্রত্যেক সন্তানের প্রশংসা করুণ
সুযোগ করে তাদের দিকে হাসিমুখে তাকান, প্রশংসা করুন, তাদের আদর করুন অথবা ধন্যবাদ দিন । প্রশংসা শুনলে পরে আমাদের সকলেরই ভাল লাগে, আমাদের নিজেদেরকে মূল্যবান বলে মনে হয় ।
আপনি যদি আপনার সন্তানদের ভাল ব্যবহার করার জন্য তাদের নিজস্ব গুনগুলির এবং ক্ষমতার প্রশংসা করেন তাহলে সেটাতে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে ।
তাদের বিচার করার বদলে আপনি তাদের সম্বন্ধে কি রকম বোধ করছেন সেটা নিয়ে কথা বলুন । এভাবে করলে আপনার সন্তানরা বুঝবে যে আপনি তাদের লক্ষ্য করছেন এবং তাদের অভিজ্ঞতার মূল্য দিচ্ছেন যেমন;
আমি দেখেছি যে খেলার মাঠে যখন অন্য মেয়েটা তোমাকে খারাপ নাম ধরে ডাকছিল, তুমি সেখান থেকে সরে গেছ... । তুমি যে খেলার জন্য অন্য কাউকে খুঁজে পেয়েছ তার জন্য আমি গর্বিত ।
আপনার সন্তান যে প্রশংসা জনক কাজ করেছে সেটা তাকে বলুন যেমন:
তুমি একটা কঠিন অবস্থা এড়িয়েছ । এতে তুমি নিরাপদে থাকবে ।
তুমি যে আমাকে বলেছ তার জন্য আমি খুশি । আমি জানি যে তোমাকে কি ভাবে অবস্থার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়েছে ।
প্রত্যেক সন্তানের অনুভূতিগুলি বুঝতে চেষ্টা করুন ।
বাচ্চারা যখন, সে কি রকম বোধ করছে এবং সেটা বলতে পারে না তখনই হয়ত তারআ নৈরাঙ্যে ভোগে এবং শারীরিক দুর্ব্যবহার করে । তাদের অনুভুতিগুলি বুঝতে শেখা এবং বলতে পারা হচ্ছে বড় হওয়ার অংশ এবং এর ফলে তাদের অনুভূতিগুলি যাতে বেশী গাঢ় না হয় সে ব্যপারে সাহায্য করে ।
আপনার সন্তানরা কি বলছে সেটা ভালভাবে শুনুন । তারা যেভাবে অবস্থাটাকে দেখছে, সেইভাবে দেখতে চেষ্টা করুন । তারা কি রকম বোধ করছে সেটা তাদের বলতে সাহায্য করুণ, তাহলে সেটা তাদের নিজেদের অনুভূতিগুলিকে বুঝতে এবং সামলাতে সাহায্য করবে । যেমন:
তাদের অনুভুতিগুলিকে নাম দিতে শেখান; আমার মনে হচ্ছে তুমি চেচাচ্ছ কারণ তোমার রাগ হয়েছে;
তাদের এটা দেখান যে তারা কি রকম বোধ করছে সেটা আপনি বুঝতে পারছেন; ‘আমি যদি ম্যাজিক করে তোমার ভয় দূর করে দিতে পারতাম;
যদিও আপনি তাদের ব্যবহার পরিবর্তন করতে চান, তাদের দেখান যে আপনি তাদের অনুভূতিগুলি বুঝতে পারছেন এবং মেনে নিতে পারছেন । ‘আমি বুঝতে পারছি তোমার তার উপর রাগ হয়েছে । তুমি তাকে যেটা বলতে চাও সেটা মুখে বল, ঘুষি মেরে বলবে না ।’
যদিও আপনি একটা সীমা নির্দেশ করে দিচ্ছেন, কিন্তু আপনি তাদের দেখাচ্ছেন যে তাদের দিক থেকে তারা কি রকম বোধ করছে সেটা আপনি বুঝতে পারছেন । আপনি হৃদয় দিয়ে তাদের অনুভুতি বুঝতে পারছেন । আপনি হয়ত বলতে পারেন
’তুমি হয়ত এটা পাবে না বলে নিরাশ হয়েছ, কিন্তু আমি এই মুহুর্তে এটা তোমার জন্য কিনতে পারব না ।’
এটা সব সময় মনে রাখা হয়ত কঠিন হতে পারে, কিন্তু যদি মনে রাখতে পারেন তাহলে এটা খুব সাহায্য কারী হবে । আপনি হয়ত দেখবেন যে খারাপ হওয়ার থেকে একটা বাচ্চার রাগ অথবা নৈরাঙ্যজনিত বদমেজাজ কমাতে সাহায্য করবে ।
কিছু কিছু পিতামাতা মনে করেন যে বাচ্চার রাগ এবং নৈরাঙ্যের অনুভুতিগুলি স্বীকার করলে তাদের বদমেজাজটা মেনে নেওয়া হবে অথবা আক্রমনাত্মক ব্যবহারের স্বীকৃতি দেওয়া হবে । কিন্তু অনুভুতির স্বীকৃতি দেওয়ার মানে হল যে আপনি কেবলমাত্র বাচ্চার অনুভূতিরই স্বীকৃতি দিচ্ছেন এবং আপনি তবুও না বলতে পারেন ।
বাচ্চাদের উন্নতি করতে এবং শিখতে সাহায্য করা
আপনার সন্তানকে সহযোগীতা শিখতে সাহায্য করা
অন্য ব্যক্তিরা কিভাবে আপনার সন্তানের সমস্যাটা দেখে, সেটা তাকে বুঝতে সাহায্য করুন । উদাহরণ হল ‘তুমি এত স্বার্থপর যে তুমি কখনও অন্যদের কথাচিন্তা কর না ।’ এইভাবে না বলে আপনি হয়ত বলতে পারেন ‘তোমার কি মনে হয় যে তোমার বোনের কি রকম লাগছে’ ?
সাধারনভাবে বলে তাকে সাহায্য করুন । যেমন “কতবার তোমাকে বলব যে চিত্কার করো না”. এভাবে না বলে বলুন “বেশি জোরে হচ্ছে, এতে আমার কানে ব্যথা লাগছে ।”
একটা শব্দ বা ছোট বাক্য আপনি যেটা বলতে চাইছেন তার মানে ঠিকমত হয় না, যেমন “আস্তে”
’আমার গায়ের সঙ্গে লেগে থেকোনা’ । এটা না বলে আপনি কেমন বোধ করছেন সেটা বলুন, যেমন, আমার ঘাড় ধরে টানা আমি পছন্দ করি না, আমাকে জড়িয়ে ধরলে আমার ভাল লাগে ।”
লিখে জানান । উদাহরন হল “টিভি দেখার আগে খেলানাগুলি গুছিয়ে রাখবে” । এটা টিভির গায়ে আটকে দিন ।
‘দেখ আমি কি করি, আমি যেভাবে করি সেভাবে কর’ ।
চারপাশের লোকেরা কি করছে সেটা বাচ্চারা দেখে এবং শেখে ।
আপনার সন্তানরা যদি চেচামেচি এবং গালাগালি করে এবং আপনি তাদের কথা শোনানোর জন্য তাদের থেকেও জোরে চেচান, তাহলে আপনি তাদের এটা শেখাচ্ছেন যে ঝগড়া মেটানোর পথ হল চেচামেচি করা ।
এর বদলে শান্তভাবে এবং যুক্তিপূর্ণভাবে কথা বলুন । তারা কি রকম বোধ করছে সেটা যে আপনি বুঝতে পারছেন, সেটা তাদের কাছে পরিষ্কারভাবে দেখান । “হ্যাঁ আমি একমত যে এটা নৈরাঙ্যজনক” । তবে একই সঙ্গে তাদের বলুন যে তাদের এই ব্যবহারের ফলাফল কি হতে পারে ।
আপনার সন্তানকে স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে শেখান
যখন বাচ্চারা বড় হচ্ছে তখন তারা ক্রমাগতই নূতন নূতন অবস্থা পরীক্ষা করে দেখছে । তারা নিজেদের ব্যাপারে নিজেরাই পছন্দ করছে এবং সিদ্ধান্ত নিচ্ছে । এভাবে তারা স্বাধীন হতে শিখছে এবং এটা তাদের জীবনে দক্ষতা আনবে ।
অল্পবয়সী বাচ্চারা
আপনি যেগুলি ঠিক মনে করেন, সেগুলির মধ্যে দুইটার থেকে একটা পছন্দ করতে বলুন । যেমন, “তুমি কি এই খেলনা নিয়ে অন্যদের সঙ্গে খেলবে, না আমি অন্য খেলনা দেব” ।
বড় বাচ্চারা এবং কিশোর কিশোরীরা
এরা প্রায়শই বিভিন্ন ব্যাপার নিয়ে ‘আলোচনা করতে চায়’ ফলাফল যেটাই হোক না কেন, তারা দেখতে চায় কি হবে এবং কোন পথ নিলে ভাল কি মন্দ কি হবে । তবে মনে রাখবেন যে আপনি এখনও তাদের পিতা বা মাতা এবং কোনটাতে আপনি রাজি, কোনটাতে আপনি রাজী নন, সেটা আপনার উপরে ।
আপনার সন্তান যে লড়াই করে বড় হচ্ছে সেটা বুঝতে চেষ্টা করুন
যেমন; তাদের যদি বন্ধু বানাতে অসুবিধা হয়, আপনি তাদের এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করতে পারেন অথবা তারা যদি স্কুলের পরে বন্ধুদের বাড়ীতে আনতে চায়, আপনি সেটা করতে দিন ।
বেশী প্রশ্ন করবেন না । যেমন; “কি হয়েছিল জিজ্ঞাসা করার বদলে কেবলমাত্র বলতে পারেন “আমি তোমাকে দেখে খুশী হয়েছি” ।
সময় নিয়ে প্রশ্নের জবাব দিন, যেমন; “ভাল কথা জিজ্ঞাসা করেছ, তোমার কি মনে হয়”?
অন্য ব্যক্তিদের প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে আপনার সন্তানকে উত্সাহিত করুন । উদাহরন হল “ আমি ঠিক জানিনা তোমার টীচারকে জিজ্ঞাসা করলে কেমন হয়”?
আপনার সন্তানকে আশা দিন । যেমন, ‘ভুলে যাও’ বলার বদলে জিজ্ঞাসা করুন “তোমার কোনটা বেশী ভাল লাগে” । অথবা এটা অসম্ভব বলার বদলে বলুন “আমি ভাবছি অন্য কোন পথ আছে কি না ।
সর্বদা বাস্তবিক এবং একই রকম নিয়ম ব্যবহার করুন
বাচ্চারা ভুল করে করে শেখে এবং স্বাভাবিকভাবেই নিয়মগুলি পরীক্ষা করা হচ্ছে তাদের শেখার একটা অঙ্গ । একই সঙ্গে তারা জানতে চায় যে নিয়মগুলির সীমা কতটা ।
তাদের স্কুলের অথবা বাইরের খেলার এবং ভিতরের খেলার নিয়মগুলি যেমন পরিষ্কারভাবে বলা আছে, বাড়ীতেও নিয়মগুলি আপনার সন্তানের বয়স অনুযায়ী বাস্তবিক এবং যথাযথ ভাবে খাটাবেন ।
’বাড়ীর নিয়মগুলি এমন একটা জায়গায় লিখে টাঙ্গিয়ে রাখবেন যাতে সকলে দেখতে পায় ।
সর্বদাই খারাপ ব্যবহার করলে তার ফলাফল কি হবে সেটাও সহজ এবং পরিষ্কারভাবে মেনে চলবেন । যদি আপনি তাদের বলেন যে খারাপ ব্যবহার করার দরুন তাদের কোন বিশেষ সুবিধা আর থাকবে না, তাহলে সেটা বলবত্ করার জন্য আপনাকে তৈরী থাকতে হবে । অল্পবয়সী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে পুরষ্কার বা খারাপ ব্যবহার করার ফল যদি সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হয় তাহলে সেটা ভাল হয় ।
ভাল ব্যবহারগুলির জন্য পুরস্কার দিন
কখন আপনার সন্তান ভাল ব্যবহার করছে সেটা লক্ষ্য করুন ।
যে ব্যবহারগুলি আপনার সন্তানের মধ্যে আপনি আরও বেশি করে দেখতে চান, সেগুলি লক্ষ্য করুন এবং তার জন্য পুরস্কার দিন । তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে আপনি তার প্রতি মনোযোগ কমিয়ে দিন ।
যখনই তাদের ব্যবহারগুলি আপনি লক্ষ্য করছেন এবং সে সম্বন্ধে মন্তব্য করছেন, তাদের আবার সেই ব্যবহারগুলি করার সম্ভাবনা বেশী । অতএব আপনি তাদের যে রকম ব্যবহার দেখতে চান, সেইগুলির প্রতি বেশী মনোযোগ দিন ।
আক্রমনাত্মক ব্যবহার বদলানো
বাচ্চাদের বিরোধ এবং দুঃশ্চিন্তার ব্যাপারে আপনার আচরন
তাদের উদাহরন দিয়ে দেখান
আপনার সন্তানরা, তাদের বিরোধ এবং দুশ্চিন্তার ব্যাপারে কিভাবে আচরন করবে সেটাতে সাহায্য করলে, আপনি তাদের অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য দক্ষতা দিতে পারছেন ।
যে কোন বিরোধের যে গঠনমূলক সমাধান করা যায় এবং কেউই আঘাত না পান , সেটা আপনার কাজ/ব্যবহারের ভিতর দিয়ে তাদের উদাহরন দিন । তাদের এটা দেখান যে যখন প্রয়োজন তখন আলাপ আলোচনা করা সাহায্য চাওয়া একটা ভাল জিনিষ ।
নিয়মানুবর্তীতা
নিয়মানুবর্তীতা শেখানো হচ্ছে বাচ্চাদের ভালোর জন্য । এই নিয়ম তাদের বিপদ থেকে রক্ষা করে এবং তারা যাতে অসামাজিক না হয় সেটা নিশ্চিত করে ।
অনেকে এখনও এটা ভাবেন যে ‘নিয়মানুবর্তীতা’ হল শারীরিক নিয়মানুবর্তীতা, তার মানে মেরে শাস্তি দেওয়া । যদিও কোন হিংস্রতা ছাড়াই আপনি আপনার সন্তানকে নিয়মানুবর্তীতা শেখাতে পারে ।
হিংস্রতার পথ নেওয়া ঠিক নয় ।
কোন বিরোধ, নৈরাঙ্য অথবা রাগের সমাধান করার জন্য হিংস্রতার অবলম্বন করা ঠিক নয় । এতে লোকেরা আঘাত পায় ।
আপনি যদি আপনার সন্তানকে মারেন, তাহলে তাদের আপনি এটাই শেখাচ্ছেন যে যাদের আপনি ভালবাসেন তাদের মারা ঠিক । এতে তাদের চিন্তাধারা অত্যন্ত মেশানো এবং বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং এই ধরনের চিন্তাধারা নিয়েই তারা বড় হয় ।
এ ছাড়াও একটা দুষ্টু বাচ্চাকে চড় মারলে বা অন্য কোন ভাবে মারলে তার মানে এই নয় যে তারা বুঝতে পারে যে তারা কি ভুল বা অন্যায় করেছে । এর মানে এই নয় যে বাচ্চাদের মারলেই তারা আর খারাপ ব্যবহার বা দুষ্টামি করবে না ।
মার ধোর করে শাস্তি দেওয়া বিপদজনক; এর ফলে স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে । অনেকগুলি দেশেই মার ধোর করা বে-আইনী । ছোট একটা চড় মারলে সেটা আস্তে আস্তে একটা বড় চড়ে পরিণত হতে পারে । এর ফলে আপনার সন্তান আঘাত পায় এবং রেগে যায় কিন্তু কি করে যে ভুল শোধরাবে সেটা বোঝার সুযোগ পায় না ।
সবচাইতে খারাপ হল এই যে যখন তাদের মন খারাপ হয় তখন তারা তাদের থেকে ছোট বাচ্চাদের মারবে ।
আপনার সন্তানদের হিংস্রতামূলক অবস্থা থেকে সরিয়ে নিলে অথবা তাদের মনকে এই অবস্থা অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিলে, আপনি তাদের এটাই শেখাচ্ছেন যে হিংস্রতামূলক ব্যবহার ঠিক নয় এবং কারো প্রতি এই ব্যবহার করা ঠিক নয় ।
নিয়ম এবং পুরষ্কার
বাড়ীতে কতকগুলি নিয়ম অবঙ্যই থাকতে হবে যাতে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যদের সঙ্গে শান্তিতে বাস করতে পারেন । তবে এই নিয়মগুলি এবং আপনার পরিবারের চাল চলন, আপনার সন্তানদের বড় হয়ে উঠার সঙ্গে বদলাতে থাকবে ।
এই নিয়মগুলি যাতে বাচ্চারা মনে রাখতে পারে, তার জন্য আপনি এইগুলি লিখে টাঙিয়ে রাখতে পারেন । তাদের প্রত্যেকের বাড়ীতে কোন কোন কাজ অবঙ্যই করতে হবে তারও একটা তালিকা টাঙিয়ে রাখতে পারেন । আপনার সন্তানদের যে কাজ গুলি করার কথা, সেগুলি তারা যখন যথাযথভাবে করবে, তখন তাদের প্রশংসা করার জন্য আপনি তাদের নামের তালিকায় তারার চিহ্ন বসাতে পারেন ।
অল্পবয়সী বাচ্চারা এবং বিরোধ
খুজে বের করুন কেন তাদের মন খারাপ হচ্ছে
অল্পবয়সী বাচ্চারা, হয়ত বলতে পারে যখন কোন ব্যাপারে তারা চিন্তিত, তখন তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার জন্য কেউ নেই । আসলে তারা যেটা বলতে চায়, সেটা হল যে তারা যখন কোন ব্যাপারে চিন্তিত তারা জানে না যে কি ভাবে তারা সেই সম্বন্ধে কথাবার্তা বলবে ।
আপনি যদি তাদের সমস্যা বা অবস্থা সম্বন্ধে কোন গল্পের বই একসঙ্গে তাদের সঙ্গে পড়েন, তাহলে গল্পের মধ্যে কি হচ্ছে, সেটা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলতে পারেন । এতে হয়ত আপনি জানতে বা বুঝতে পারবেন কোন ব্যাপারে আপনার সন্তানের মন খারাপ । এবং কি কারণে তারা দুষ্টামি বা খারাপ ব্যবহার করছে ।
অন্য পথ হল খেলা বা ছবি আঁকার মধ্য দিয়ে তারা তাদের অনুভুতিগুলি প্রকাশ করতে পারে । আপনি যখন তাদের চিন্তা ভাবনা নিয়ে কথা বলতে পারবেন, তখন আপনি তাদের সঙ্গে, তারা কি রকমের ব্যবহার করছে এবং এর ফলে তাদের এবং অন্যদের উপর কিরকম প্রতিক্রিয়া হচ্ছে, সেটা নিয়ে কথাবার্তা বলতে পারবেন ।
শাস্তি দেওয়ার বদলে অন্য কোন পথ খুজে বের করুন
আপনার সন্তানকে সাহায্যকারী হতে সাহায্য করুন
‘তুমি যদি আবার এরকম কর তাহলে বকুনি খাবে’ এই কথা না বলে বলুন ‘আমি যখন ফোনে কথা বলছি তখন তুমি যদি খেলনা নিয়ে খেল বা একটা ছবি আঁক তাহলে ভাল হয় ।’
আপনার সন্তান যখন খারাপ ব্যবহার করে তখন তাদের এটা বোঝান যে আপনি কেবল তাদের খারাপ ব্যবহার অপছন্দ করছেন, তাকে ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ করছেন না ।
‘তুমি সব সময় অভদ্র ব্যবহার কর, এই কথা না বলে বলুন যে ‘কাউকে খারাপ নাম ধরে ডাকা খুব খারাপ । এতে তাদের মন খারাপ হয় ।’
তাদের বকা ঝকা করার বদলে তাদের বলুন কোনটা ঠিক ।
‘তুমি যদি আবার এরকম কর, তাহলে একটা চড় খাবে’ এই কথা না বলে বলুন, ‘দেয়াল ছবি আঁকার কাগজে ছবি আঁকা ভাল’ ।
সমস্যা সমাধানের জন্য কার্যকরী পথ নিন:
তোমার যদি রাগ হয় তাহলে বাইরে গিয়ে বল ছোড়াছুড়ি কর-তাহলে সেটাতে কাঁচ যে ভাবে ভেঙ্গেছে তা আবার ভাঙ্গবে না ।
আপনি তাদের কাছ থেকে কি আশা করেন এবং আপনি কি পছন্দ করেন, সেটা তাদের পরিষ্কার ভাবে বোঝান ।
আমাদের পরিবারে আমরা আদর এবং জড়িয়ে ধরা পছন্দ করি, চড়চাপড় ভালবাসি না কারন সেটাতে ব্যথা লাগে ।
কিভাবে ভুল শোধরানো যায় সেটা আপনার সন্তানকে শেখান:
‘দয়া করে বল যে তুমি দুঃখিত এবং তোমার বন্ধুকে বল যে পরের বার তুমি অন্যরকমভাবে ব্যবহার করবে’ ।
আপনার সন্তানকে পছন্দ করতে দিন যেমন:
‘তুমি সরে যেতে পার এবং দশ পর্যন্ত গুনতে পার, অথবা তোমার টিচারকে বলতে পার ।
আপনার সন্তানের খারাপ ব্যবহারের ফলগুলি কি হতে পারে সেটা তাকে বুঝিয়ে বলুন ।
‘তুমি যদি আমাকে মার তাহলে আমার দুঃখ এবং রাগ হয়, কিন্তু যখন তুমি তোমার অনুভূতিগুলি সম্বন্ধে আলোচনা কর, তখন আমি তোমাকে সাহায্য করতে চাই’ ।
শারীরিক শাস্তির বদলে অন্যান্যগুলি
আপনার যদি মনে হয় যে আপনার সন্তান ইচ্ছা করে দুষ্টামি করছে, তাহলে তাকে কোন রকম ভাল জিনিষ দেওয়া বা সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দেন, তাহলে শারীরিক শাস্তি দেওয়া থেকে সেটা অনেক বেশী কার্যকরী হবে ।
যদি এটা দেখা যায় যে এই বাচ্চার খারাপ ব্যবহার সামলানো যাচ্ছে না, তাহলে তার দল অথবা কার্যক্রম যেগুলিতে তারা বিশৃংখলার সৃষ্টি করছে, যতক্ষন পর্যন্ত তারা শান্ত না হয়, ততক্ষন পর্যন্ত সেগুলি থেকে তাদের সরিয়ে দিলে, সেটা সাহায্যকারী হতে পারে ।
কঠিন অবস্থার জন্য তৈরী হওয়া
খাওয়া, শোয়া অথবা খেলার সময়টা নিয়মিত থাকলে তারা খুশি হয় । সময়ের অদল বদল হলে বা অন্য কোথাও যদি যেতে হয় বা অন্য কোন বয়স্ক ব্যক্তি অথবা বাচ্চাদের সঙ্গে যদি যোগাযোগ করতে হয় তাহলে তাদের জন্য সেই অবস্থাগুলি বিশৃংখলার সৃষ্টি করে ।
নিয়মের অদল বদলের জন্য তাদের তৈরী করুন, অথবা নূতন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার জন্য তাদের সাহায্য করুন । তাদের নূতন পরিবেশের জন্য তৈরী করার জন্য, সেই দিন অথবা পরের ঘন্টায় কি হবে সেটা আগের থেকে তাদের বলুন । আপনি হয়ত দেখবেন যে বারে বারে বললে সেটা তাদের জন্য সাহায্যকারী হবে ।
বড় বাচ্চারা এবং কিশোর/কিশোরীরা, এবং বিরোধ
ন্যায্য এবং শক্ত হোন
বাচ্চাদের ক্রমাগত খারাপ ব্যবহার এবং নিয়ম ভঙ্গ করা হয়ত আপনার পক্ষে সহ্য করা কঠিন হতে পারে কিন্তু ন্যায্য এবং শক্ত হোন ।
প্রথমে ভাল করে চিন্তা করুন যে ব্যাপারটা কতটা উল্লেখযোগ্য এবং এ ব্যাপারে কি সত্যি সত্যি কিছু করতে হবে ।
আপনি এই ব্যাপারটা নিয়ে ভালভাবে চিন্তা করলে এটা আপনার সন্তানের পক্ষে উপকারী হবে । কঠিন পরিস্থিতিতে কি ভাবে চলতে হবে এবং কেমন করে সামলাতে হবে সেটা আপনি উদাহরণ দেখালে সেটা আপনার সন্তানের পক্ষে শিখতে সাহায্যকারী হবে ।
আপনি যদি কোন হিংস্রতামূলক উত্তরের আশঙ্কা করেন
আপনি যদি ঠিক করেন যে আপনার কোন বড় সন্তানের বা কোন কিশোরে/কিশোরীরা সঙ্গে কোন ব্যাপারে মোকাবিলা করতে হবে এবং আপনার আশঙ্কা হচ্ছে যে তারা এর ফলে হিংস্র হতে পারে, তাহলে নিম্নলিখিত পন্থাগুলি চেষ্টা করে দেখতে পারেন ।
প্রথমে নিজের মাথা ঠান্ডা করার জন্য সময় নিন এবং চিন্তা করুন এ ব্যাপারে আপনি কি বলতে এবং কি করতে চান;
তাদের বলুন যে এ ব্যাপারে একটা বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে চান, এবং
এই আলোচনা করার জন্য একটা সময় ঠিক করুন, হয়ত পরের দিন সকালবেলা
আপনি যদি ঠান্ডা মাথায় কথাবার্তা বলার পরিকল্পনা করেন, তাহলে আপনার সন্তানের উত্তর হয়ত কম হিংস্র হবে । এতে আরও সাহায্য হবে যে আপনি রাগের মাথায় কিছু না বলেন এবং পরে তার জন্য দুঃখিত হন ।
আলোচনার সময়ে আপনি আপনার সন্তানকে বলুন যে সে যে ব্যবহার করেছে সে ব্যাপারে আপনি কি রকম বোধ করেছেন এবং তারা কি রকম বোধ করছে সেটা তাদের বলতে সময় দিন ।
এরপর কি হবে
আপনার সাহায্যে আপনার সন্তান কি করে উন্নতি করতে পারে যেটা আপনি এবং তার চারপাশের অন্যান্য লোকেরা মেনে নিতে পারেন, সেটা নিয়ে আলোচনা করুণ ।
আপনি হয়ত দেখবেন যে আপনারা একটা আপোস মীমাংসায় আসতে পারবেন, যদিও সেটা একেবারে নিখুঁত নয়, কিন্তু আপনার এবং আপনার সন্তান দুজনের কাছেই সেটা গ্রহনযোগ্য হবে ।
যদি আপনারা একটা আপোস মীমাংসায় না আসতে পারেন বা আপনার সন্তান তার কথা না রাখে, তাহলে কি ধরনের শাস্তির ব্যবস্থা করবেন সেটা নিয়েও আলোচনা করুন ।
যখন একটা ফলাফলের প্রয়োজন আছে
যদি আপনি ঠিক করেন যে তার ব্যবহারের জন্য তাকে কিছু শাস্তি দিতে হবে, তাহলে চেষ্টা করুন যাতে সেটা খুব কঠোর না হয় । শাস্তি দুর্ব্যবহারের যোগ্য হওয়া উচিত ।
আপনি হয়ত এটা ঠিক করতে পারেন যে আপনার সন্তান বাড়ীর বাইরে বেরোতে পারবে না অথবা কোন খেলাধূলা বা কর্মপরিকল্পনায় যোগ দিতে পারবে না ।
চড় চাপড় মারা বা চেচানো কার্যকরী হওয়ার সম্ভাবনা কম । আপনি যদি তাদের দেখাতে পারেন যে বয়স্ক ব্যক্তিরা তাদের রাগ এবং নৈরাঙ্যের সমাধান এভাবে করেন, তাহলে বাচ্চারা এটাই মনে করবে যে তাদের যখন রাগ হবে তখন তাদের এরকম ব্যবহার মেনে নেওয়া হবে ।
আপনি যখন রেগে যান বা তাদের সঙ্গে কথা না বলতে চান, তাহলে তারা হয়ত, আপনি যতটা মনে করছেন, তার থেকেও বেশী ভয় পায় ।
এটাতে যদি কাজ হয় না হয়
আপনার যদি মনে হয় যে কোন কিছুতেই কাজ হচ্ছে না তাহলে তাদের সাহায্য করার জন্য একটা তালিকা তৈরি করুন ।
আপনার সন্তান যদি হিংস্র আবহাওয়ায় বড় হয়ে থাকে
আপনার সন্তানরা যদি বাড়ীতে হিংস্র ব্যবহার দেখে থাকে অথবা হিংস্রতার শিকার হয়ে থাকে, তার মানে এই নয় যে স্বাভাবিকভাবেই তাদের ব্যবহার হিংস্র হবে অথবা তারা হিংস্র ব্যক্তি হয়ে বড় হবে ।
কেউ কেউ হয়ত হিংস্র ব্যবহার করবে আর কেউ কেউ হয়ত ইচ্ছাকৃত ভাবেই আক্রমনাত্মক ব্যবহার করা প্রত্যাখ্যান করবে এবং অন্যদের ব্যবহার হয়ত এমন হবে যে তারা নিজেদের সব কিছু থেকে সরিয়ে নেবে ।
অস্বাভাবিক বা বিপদজনক অবস্থায় ‘খারাপ বা আক্রমনাত্মক ব্যবহার’ করা খুবই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া
তাদের আত্মসম্মান বাড়াতে সাহায্য করা
আপনি আপনার সন্তানদের যাতে দেখাতে পারেন যে তারা অন্যরকম, সেরকম সুযোগের সন্ধানে থাকুন;
‘তোমার খুব সাহস এবং ভালভাবে তোমার ভারসাম্য বজায় রেখেছিলে’ ।
আপনার সন্তানকে এমন একটা অবস্থায় ফেলুন যেখানে তারা নিজেদের অন্যভাবে দেখে
‘তুমি যদি আমাকে বাজার থেকে আনা জিনিসগুলি গোছাতে সাহায্য কর, তাহলে আমার খুব সাহায্য হবে’ ।
আপনি যখন তাদের প্রশংসা করছেন তখন তারা যাতে পেছন থেকে শুনতে পায়, সেই চেষ্টা করুন ।
‘সে অন্য বাচ্চাদের অঙ্ক বোঝাতে অনেক সাহায্য করে’ ।
কখনও আপনার সন্তানকে হিংস্র ব্যক্তির সঙ্গে তুলনা করবেন না । আপনার নিজের ব্যবহার ঠিক রাখুন ।
আমরা কেউ মারামারি পছন্দ করি না । আমরা আমাদের অনুভূতিগুলি নিয়ে আলোচনা করি । এবং আমাদের সমস্যার সমাধান করি ।
তাদের ভাল ব্যবহারগুলির কথা এবং তাদের কোন ব্যবহারগুলি আপনার ভাল লাগে এবং সাহায্যকারী সেগুলি তাদের বলুন
অতীত এবং বর্তমান সম্বন্ধে কথা বলুন ।
বিশেষ স্মৃতি এবং মূহুর্তের কথা মনে রাখুন:
”আমার মনে আছে কালকে যখন তুমি...”
অতীতকে বর্তমান এবং ভবিষ্যত থেকে আলাদা করুন
‘এটা হয়েছিলো যখন আমরা সেখানে থাকতাম, কিন্তু আমরা সেটা পছন্দ করতাম তাই আমরা সেখান থেকে চলে এসেছি । এখন আমরা একে অন্যকে সাহায্য করি । তুমি যদি আমাদের কুশনটা আন, তাহলে আমি তোমাকে একটা গল্প পড়ে শোনাব’ ।
এই সব চিন্তাগুলি ব্যবহার করার সুযোগ খুজুন । যখন আপনি অন্য কিছু করছেন, তখনই হয়ত সবচাইতে ভাল কথাবার্তা হতে পারে- যেমন বাসন ধোয়া মোছার সময়, গাড়ীতে বসে অথবা খেলাধূলা করার সময় ।
আপনার অনুভূতিগুলি সম্বন্ধে এবং কোন একটা ঘটনা যেটা ঘটেছিল, সে সম্বন্ধে আপনার কি রকম লেগেছিলো সেটা তাদের পরিষ্কারভাবে বলুন ।
আপনার সন্তানদের সাহায্য করার জন্য আপনি যে পন্থা অবলম্বন করতে পারেন
বাড়ীতে কি হচ্ছে সে সম্বন্ধে চিন্তা করুন ।
আপনার সন্তানের কঠিন ব্যবহারের কারণগুলি কি সে সম্বন্ধে চিন্তা করুণ ।
কোন কারনে আপনার সন্তানরা খারাপ ব্যবহার করতে পারে সে বিষয়ে চিন্তা করুন ।
তারা হয়ত ক্লান্ত, তাদের হয়ত ক্ষিদে পেয়েছে, তাদের হয়ত কিছু করার নেই অথবা তারা হয়ত অত্যন্ত উত্তেজিত । এই সবগুলিই সমাধান করার জন্য আপনি কিছু করতে পারেন ।
এখন কি আপনার সন্তানকে কোন ব্যাপার বিরক্ত বা চিন্তিত । তার মানে হতে পারে যে তারা সেটা আপনাকে বলার ব্যাপারে চিন্তিত ।
চিন্তা করুন কবে থেকে সমস্যা আরম্ভ হয়েছিল
কবে থেকে গন্ডগোল আরম্ভ হয়েছে;
এমন কি কিছু হয়েছিলো যেটা আপনার সন্তানকে চিন্তিত করেছিল, এমন কি যদি সেটা অনেকদিন আগেও হয়ে থাকে;
এমন কোন ঘটনা ঘটেছিল কি যেটা আপনি মনে করেছিলেন যে সেটা উল্লেখযোগ্য নয় এবং আপনার সন্তান শীগগীরই সেটা ভুলে যাবে ।
এমন কোন ব্যাপার হয়েছিল কি যেটা সম্বন্ধে আলোচনা করা কঠিন ছিল এবং আপনি সে ব্যাপারে আপনার অনুভূতিগুলিকে প্রকাশ করেন নি এবং এর ফলে আপনার সন্তানদেরও সে সম্বন্ধে তার চিন্তা ভাবনা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ সে পায় নি ।
আপনার নিজের মনের মধ্যে জমিয়ে রাখা অনুভূতিগুলি
আপনার অনুভূতিগুলি নিজের মনের মধ্যে জমিয়ে রাখা হয়ত আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে এবং সম্ভবত আপনি আপনার সন্তানদের কাছেও একই রকমের ব্যবহার আশা করছেন ।
মনের মধ্যে জমিয়ে রাখা অনুভূতিগুলি রাগ, আক্রমন অথবা স্বার্থপর ব্যবহার হিসাবে প্রকাশ পেতে পারে । অতীতের কোন ঘটনা হয়ত দীর্ঘদিনের জন্য তাদের অসুখী করেছে এবং যেহেতু আপনি তাদের সঙ্গে এই ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করেন নি সেইজন্য তারা হয়ত রাগ বা অসন্তুষ্ট বোধ করছে ।
কি হচ্ছে সেটা নিয়ে কথা বলুন
কি হচ্ছে না হচ্ছে সেগুলি নিয়ে আপনি যদি তাদের সঙ্গে খোলাখুলিভাবে আলোচনা করেন তাহলে সেটা আপনার সন্তানদের আপনাকে প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার সুযোগ দেবে এবং সেটা তাদের চিন্তা ভাবনা কমাতে সাহায্য করবে এবং তারা অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করবে ।
ছোটখাট ব্যাপার নিয়ে কথাবার্তা আরম্ভ করুন । এর ফলে উল্লেখযোগ্য ব্যাপারগুলির কথা উঠলে সেগুলি নিয়ে কথাবার্তা বলা সহজ হবে ।
আপনি কি রকম বোধ করছেন, সেটা আপনার সন্তানদের বুঝতে দিন । তাদের জানতে দিন কোনটা আপনার পক্ষে ভাল ছিল এবং আপনি কোন অবস্থাটা উপভোগ করেছেন । সেই সঙ্গে কোন অবস্থা আপনার পক্ষে কঠিন ছিল, সেটাও তাদের বলুন ।
আস্তে আস্তে সময় নিয়ে আপনি হয়ত তাদের বলতে পারবেন যে এখন কোন অবস্থাটা আপনার পক্ষে ভাল এবং অতীতে কি হয়েছিল । এর ফলে তারা বুঝতে পারবে যে যাই ঘটে থাকুক না কেন তার জন্য আপনি বা তারা কেউই দোষী নয় ।
অবস্থার প্রত্যাশা
যখন আপনার সন্তানের জীবনে যে কোন কারনেই কোন পরিবর্তন আসে, তখন ভবিষ্যতে কোন সমস্যা বা বিরোধ আসতে পারে সে বিষয়ে আগের থেকে চিন্তা করা উচিত
যে অবস্থাগুলি উদ্বিগ্ন এবং অসুখী করতে পারে
কতকগুলি অবস্থা আপনার সন্তানদের উদ্বিগ্ন এবং অসুখী করতে পারে এবং এই কারনে তাদের ব্যবহার খারাপ হতে পারে । এর মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি থাকতে পারে ।
আপনি যদি আপনার স্বামী/স্ত্রী বা সঙ্গী থেকে আলাদা হয়ে যান, ডিভোর্স অথবা কোন নূতন স্বামী /স্ত্রী, সঙ্গী
নূতন বাচ্চার জন্ম বা বড় কোন ভাই/বোন
স্কুল আরম্ভ করা বা স্কুল বদলানো
আপনি যদি দীর্ঘকাল অসুখে ভুগছেন অথবা বিকলাঙ্গতা
পারিবারিক হিংস্রতা
পরিবারের কেউ মারা গেছেন ; অথবা
নূতন এলাকায় বসবাস আরম্ভ করা
তাদের জগত হয়ত ওলট পালট হয়ে যেতে পারে । তারা হয়ত মনে করতে পারে যে তাদের কেউ চায় না । নিরাপত্তার অভাবে হয়ত তাদের ব্যবহারের পরিবর্তন হতে পারে - ছোট বাচ্চারা হয়ত দুষ্টামি করতে পারে অথবা কিশোর/কিশোরীদের মধ্যে রাগ এবং আক্রমনাত্মক ব্যবহার দেখা দিতে পারে ।
আপনার স্বামী/স্ত্রী থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার মানে হল বাচ্চারা ক্ষতিতে ভোগে; তারা যে বাড়ীতে থাকত সে বাড়ী হারানো, যেভাবে তাদের জীবন চলছিল সেটা বদলে যাওয়া, পুরানো বন্ধু, আত্মীয়, এমন কি পোষা জন্তু জানোয়ার হারানো । তাদের হয়ত নূতন স্কুলে যেতে হবে এবং নূতন বন্ধু বান্ধব তৈরী করতে হবে ।
তাদের উদ্বেগ কমাতে চেষ্টা করুন ।
আপনি, যখন আপনার সন্তানদের সঙ্গে তাদের জীবনের পরিবর্তন সম্বন্ধে কথা বলেন, তখন তাদের এটা মনে করিয়ে দেবেন, যে আপনি তাদের এখনও ভালবাসেন । তাদের ব্যাপারে সর্বদাই মনোযোগ দিন এবং তাদের অনুভূতিগুলি বুঝতে চেষ্টা করুন ।
আপনার স্বামী/স্ত্রী অথবা সঙ্গীর সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর বাচ্চাদের নিশ্চিন্ত করার জন্য তাদের জানান যে মা বা বাবা হিসাবে আপনি তাদের যেমন যত্ন করতেন সেরকমই করবেন এবং তাদের মা/বাবা যিনি তাদের সঙ্গে আর থাকেন না, তার সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হারাতে হবে না । যদিও আপনার স্বামী/স্ত্রী বা সঙ্গীর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক তেমন ভাল না । যদি সম্ভব হয় তাহলে আপনার সন্তানদের মা বা বাবার সঙ্গে বাচ্চাদের প্রয়োজন এবং অনুভূতিগুলি নিয়ে কথা বলুন ।
আপনার সন্তানদের নিরাপত্তার বোধ বাড়ানোর জন্য যতটা সম্ভব তাদের স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজ কর্মগুলি চালিয়ে যান ।
যেটা ঘটেছে, তাদের বুঝিয়ে বলুন কেন সেটা ঘটেছে । আপনার বাচ্চাদের মতামত শুনুন, তবে মনে রাখবেন, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গুলি যেমন; বাচ্চারা কোথায় থাকবে, কিভাবে অন্য পিতা/মাতার সঙ্গে দেখা সাক্ষাত্ করবে, সেই সিদ্ধান্তগুলি শেষ পর্যন্ত বড়দেরই নিতে হবে ।
নিজেকে দেখাশুনা করুন
এটা খুব উল্লেখযোগ্য যে আপনি আপনার নিজের যত্ন নিয়ে থাকেন । আপনার স্বাস্থ্য যদি ভাল থাকে এবং অন্যদের কাছ থেকে সাহায্য পেয়ে থাকেন তাহলে আপনি আপনার সন্তানদের আরও ভালভাবে সাহায্য করতে পারবেন ।
আপনার অভিজ্ঞতা অন্যদের ভাগাভাগি করুন
সঙ্কটকালের জন্য অপেক্ষা করবেন না । যখনই মনে হবে যে কোন সঙ্কট উপস্থিত হতে পারে, তখনই এ সম্বন্ধে আলোচনা করুন ।
স্থানীয় পিতা মাতার দলে যোগদান করুন, অথবা কিভাবে পি
